হার্ড ডিস্কের মাধ্যমে কম্পিউটারে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সেট আপ (চিত্র সহ মেগা টিউটোরিয়াল)
আমরা প্রায় সবাই কম বেশি উইন্ডোজ সেট আপ করেছি। প্রথম দিকে আমরা সিডি
অথবা ডিভিডির মাধ্যমে উইন্ডোজ সেট আপ করতাম কিন্তু পাইরেটেড লোকাল সেই সিডি
ডিভিডি গুলো ঠিক মত রাইট করতে না পারার কারনে বেশির ভাগ সময়ই ‘এরর’ দেখাতো
সেট আপ চলাকালীন সময়ে আবার ব্যবহার করতে করতে এগুলোতে বিভিন্ন রকমের
স্ক্র্যাচ পরে যেত যার কারনে সেগুলো পরবর্তীতে ব্যবহার করা যেত না।
এছাড়াও, ৫০-৭০ টাকায় বার বার সিডি-ডিভিডি কেনাও ছিল বিরক্তকর আর অনেকের যদি ‘অপটিক্যাল ড্রাইভ’ নষ্ট থাকত তহলেতো কথাই নেই। এসব সমস্যার কারনেই কি না জানিনা, পরবর্তী সময়ে আমরা পেন ড্রাইভের মাধ্যমে উইন্ডোজ সেট আপ দিতে শুরু করলাম। এর কিছু ভালো ফলাফলও পাওয়া গেল। যেমন, এই পদ্ধতিতে টাকা খরচের কোন প্রকার বালাই নেই।
এই পদ্ধতী অনুসরণে ডিস্কের তুলনায় অধিক দ্রুততার সাথে (কিছুটা হলেও) উইন্ডোজ সেট আপ প্রোসেস সম্পন্ন হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু, এই পদ্ধতিও আমার কাছে কিছুটা বিরক্তিকর। কেননা, পেনড্রাইভে উইন্ডোজ বুট সেট করতে বেশ খানিকটা সময় লাগে এবং মাঝে মাঝে সফল ভাবে সম্পন্ন না হবার কারনে উইন্ডোজ সেট আপ প্রোসেসের সময় ‘এর্’ দেখায় (যদিও খুব কম)। আবার নতুন দের জন্য কম্পিউটারের ‘বুট টাইম প্রায়োরিটি’ সিলেক্ট করাও কিছুটা ঝামেলার। ইত্যাদি কারণে এই পদ্ধতিটিও আমার কাছে বিরক্ত লাগল। তাই চিন্তা করলাম যে যদি এমন কোন প্রোসেস থাকত যার মাধ্যমে হার্ড ডিস্কের মাধ্যমেই বিনা ঝামেলায় কম্পিউটার সেট আপ দেয়া যেত।
যেই ভাবা সেই কাজ, সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে বিরক্ত করা শুরু করলাম। শেষমেষ পদ্ধতিটি খুঁজে পেলাম। পরীক্ষা করে সফল হলাম, আর বসে গেলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমি খুব ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রতিটি কাজের স্ক্রিন শট নিয়েছি। আশা করি পদ্ধতিটি আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন।চলুন, জেনে নেয়া যাক হার্ড ডিস্ক থেকে উইন্ডোজ সেট আপ করার প্রক্রিয়াটি।
২। EasyBCD সফটওয়্যার (বিনামূল্যেই অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন)

২। ‘Manage’ এ ক্লিক করার পর ‘Computer Management’ নামের একটি নতুন উইন্ডো দেখতে পারবেন। সেখানে ‘Storage’ অপশনে ক্লিক করুন। বুঝতে অসুবিধা হলে নিচের স্ক্রিন শট লক্ষ্য করুন।

৩। ‘Storage’ অপশনে ক্লিক করার পর নতুন উইন্ডোতে ‘Disk Management’ নামের একটি অপশন পাবেন। ক্লিক করুন।

৪। ‘Disk Management’ অপশনে ক্লিক করার পর নতুন একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন যার উপরের দিকে আপনার হার্ড ডিস্কের ড্রাইভের লিস্ট ভিউ এবং নিচের দিকে গ্রাফিক্যাল ভিউ দেখতে পাবেন। আমি স্ক্রিন শটে গ্রাফিক্যাল ভিউ ব্যবহার করেছি।

৫। উপরের চিত্রে দেখুন আমার কম্পিউটারে দুটি হার্ড ডিস্ক রয়েছে। প্রথম হার্ড ডিস্কের পুরোটাই আমি Windows এর System ড্রাইভ হিসেবে ব্যবহার করি। হার্ড ডিস্ক থেকে উইন্ডোজ সেট আপ দেয়ার জন্য প্রথমে আমাদের একটি ড্রাইভ ক্রিয়েট করতে হবে যার মাধ্যমে আমরা উইন্ডোজ সেট আপ করব।এক্ষেত্রে, আমি C ড্রাইভ থেকেই একটি নতুন পার্টিশন ক্রিয়েট করব। এর জন্য, C ড্রাইভের উপর মাউস রেখে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন। ‘Shrink volume’ নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন কনটেক্সট মেন্যুতে, সিলেক্ট করুন।

৬। ‘Shrink Volume’ অপশনে ক্লিক করার পর নিচের মত একটি পপ-আপ উইন্ডো দেখতে পারবেন, এটা কিছু সময় এরকমই থাকবে। কম্পিউটার ‘হ্যাং’ হয়ে গিয়েছে ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না আবার।

৭। এরপর আপনি একটি নতুন Shrink C: নামের উইন্ডো দেখতে পাবেন। এখানে আপনাকে নির্ধারিত করে দিতে হবে যে আপনি C ড্রাইভ থেকে ঠিক কত খানি জায়গা খালি করতে চাচ্ছেন নতুন পার্টিশনটি তৈরী করার জন্য। এই হিসাবটি মেগাবাইটে হয়ে থাকে এবং হিসাব অনুযায়ী আমি এখানে ৬ গিগাবাইট স্পেস খালি করার জন্য 6144 লিখেছি। আপনি ইচ্ছা করলে আরও কমও নিতে পারেন। আপনার কাছে যে উইন্ডোজ এর সিডি/ডিভিডি বা আইএসও ইমেইজটি থাকবে তার আকার অনুযায়ী নির্ধারন করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমার কাছে যে ইমেইজটি আছে উইন্ডোজের সেটি ৪ গিগাবাইটের মত। তাই আমি একটু বাড়িয়ে ৬ গিগাবাইট নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমি ৪ গিগাবাইট ব্যবহার করলেও পারতাম।আপনার চাহিদা মত জায়গার পরিমাণ তিন নম্বর ঘরে বসিয়ে ‘Shrink’ বোতামে ক্লিক করুন।

৮। দেখুন, আমার প্রথম হার্ড ডিস্কটতে C ড্রাইভের পাশে ৬ গিগবাইট স্পেস সমৃদ্ধ একটি আন-আল্যোকেটেড পার্টিশন দেখা যাচ্ছে।

৯। এখন আমাদের এই আন-অ্যালোকেটেড ড্রাইভকে ফরম্যাট করে একটি লোকাল পার্টিশনে পরিবর্তন করতে হবে। এর জন্য আন-আল্যোকেটেড ড্রাইভের উপর মাউস রেখে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন। কনটেক্সট মেন্যুতে ‘New Simple Volume’ নামের একটি অপশন দেখতে পারবেন, ক্লিক করুন।

১০। ‘New Simple Volume Wizard’ নামের একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন। ‘Next’ বোতামে ক্লিক করুন।

১১। নতুন আসা উইন্ডোতে আপনাকে ৬ গিগাবাইটের মধ্যে আপনি কতটুকু স্পেস ব্যবহার করতে হবে তা নির্ধারন করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে, আমি ৬ গিগাবাইট স্পেসই নিচ্ছি। নির্ধারন শেষে ‘Next’ বোতামে ক্লিক করুন।

১২। এরপর আপনাকে নতুন একটি উইন্ডোতে নতুন পার্টিশনের জন্য ড্রাইভ লেটার সিলেক্ট করতে বলবে। ইচ্ছেমত একটি ড্রাইভ লেটার নির্ধারন করে ‘Next’ বোতামে ক্লিক করুন।

১৩। নতুন একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন যাতে আপনাকে নতুন পার্টিশনের জন্য ফাইল সিস্টেম, আল্যোকেশন ইউনিট সাইজ এবং পার্টিশনের নাম নির্ধারন করতে বলবে। এক্ষেত্রে আমি ফাইল সিস্টেমে ‘NTFS’, অ্যালোকেশন ইউনিটে ডিফল্ট এবং পার্টিশনের নাম হিসেবে Recovery ব্যবহার করছি। আপনার নির্ধারন করা হয়ে গেলে Next চাপুন।

১৪। নতুন একটি উইন্ডো আসবে যাতে আপনার নতুন পার্টিশনের জন্য আপনার নির্ধারিত সিলেকশন গুলো দেখাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে Finish চাপুন।

১৫। দেখুন, পূর্বের আন-আল্যোকেটেড স্পেস টুকু নতুন পার্টিশন ‘Recovery’ তে পরিবর্তিত হয়েছে।

১৬। এবার, আপনার অপটিক্যাল ড্রাইভে (সিডি/ডিভিডি রম) উইন্ডোজের ডিস্ক ইনসার্ট করুন। এক্ষেত্রে আমি ভার্চুয়াল ড্রাইভে আইএসও ফাইল ইনসার্ট করেছি। আপনিও চাইলে আইএসও ব্যবহার করতে পারেন।

১৭। এবার উইন্ডোজের ডিস্কে ঢুকে alter+a ক্লিক করে ডিস্কের ভিতরের সকল ফাইল সিলেক্ট করে কপি করুন এবং আপনার তৈরী করা নতুন ‘Recovery’ পার্টিশনে ফাইল গুলো গিয়ে পেস্ট করুন।

১৮। কপি হচ্ছে। কিছুটা সময় লাগবে। চলুন, এই সময়ের মধ্যে আমরা আরও একটি কাজ সেরে ফেলি। মাই কম্পিউটারের Organize এ ক্লিক করে Folder and search options অপশনটি সিলেক্ট করুন।

১৯। ‘Folder Options’ এর View প্যানেলে যান। এরপর নিচের চিত্রের লাল মার্ক করা স্থান গুলোর প্রথমটি সিলেক্ট করুন এবং পরের দুইটির পাশ থেকে টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন এবং Apply > OK অথবা OK দিয়ে বের হয়ে আসুন।

২০। এরপর EasyBCD সফটওয়্যারটি চালু করুন। নিচের চিত্রের মত প্রথমে Add New Entry সিলেক্ট করুন, এরপর Portable/External Media থেকে WinPE সিলেক্ট করুন। Type এর জায়গায় ‘WIM Image (Ramdisk), Name এর স্থানে ‘Recovery’ (নতুন করা পার্টিশনের নাম, আপনি ইচ্ছে করলে অন্য কিছুও দিতে পারেন) এবং Path এর স্থানে নতুন করা পার্টিশনের ড্রাইভ এর মধ্যে রাখা Source ফোল্ডারের মধ্যে boot.wim ফাইলটি সিলেক্ট করুন। এরপর ‘Add Entry’ বোতাম চাপুন। নিচের দিকে দেখবেন, ‘Recovery added to the boot menu successfully!’ একটি লেখা দেখাচ্ছে। ব্যাস। হয়ে গেল। এরপর আপনার কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন।

কম্পিউটার রিস্টার্ট দেয়ার পর বুট মেন্যুর পর দেখবেন আপনাকে আপনার বর্তমান অপারেটিং সিস্টেম এবং নিচে আপনার সেই রিকোভারী বুট অপশন দেখাচ্ছে।
আশা করি, পদ্ধতিটি আপনারা বুঝতে পেরেছেন এবং এই পদ্ধতি থেকে আপনারা উপকৃতও হবেন। আজ এ পর্যন্তই থাক, পরে হাজির হব নতুন কিছু নিয়ে। সে পর্যন্ত, ভালো থাকুন
এছাড়াও, ৫০-৭০ টাকায় বার বার সিডি-ডিভিডি কেনাও ছিল বিরক্তকর আর অনেকের যদি ‘অপটিক্যাল ড্রাইভ’ নষ্ট থাকত তহলেতো কথাই নেই। এসব সমস্যার কারনেই কি না জানিনা, পরবর্তী সময়ে আমরা পেন ড্রাইভের মাধ্যমে উইন্ডোজ সেট আপ দিতে শুরু করলাম। এর কিছু ভালো ফলাফলও পাওয়া গেল। যেমন, এই পদ্ধতিতে টাকা খরচের কোন প্রকার বালাই নেই।
এই পদ্ধতী অনুসরণে ডিস্কের তুলনায় অধিক দ্রুততার সাথে (কিছুটা হলেও) উইন্ডোজ সেট আপ প্রোসেস সম্পন্ন হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু, এই পদ্ধতিও আমার কাছে কিছুটা বিরক্তিকর। কেননা, পেনড্রাইভে উইন্ডোজ বুট সেট করতে বেশ খানিকটা সময় লাগে এবং মাঝে মাঝে সফল ভাবে সম্পন্ন না হবার কারনে উইন্ডোজ সেট আপ প্রোসেসের সময় ‘এর্’ দেখায় (যদিও খুব কম)। আবার নতুন দের জন্য কম্পিউটারের ‘বুট টাইম প্রায়োরিটি’ সিলেক্ট করাও কিছুটা ঝামেলার। ইত্যাদি কারণে এই পদ্ধতিটিও আমার কাছে বিরক্ত লাগল। তাই চিন্তা করলাম যে যদি এমন কোন প্রোসেস থাকত যার মাধ্যমে হার্ড ডিস্কের মাধ্যমেই বিনা ঝামেলায় কম্পিউটার সেট আপ দেয়া যেত।
যেই ভাবা সেই কাজ, সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে বিরক্ত করা শুরু করলাম। শেষমেষ পদ্ধতিটি খুঁজে পেলাম। পরীক্ষা করে সফল হলাম, আর বসে গেলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমি খুব ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রতিটি কাজের স্ক্রিন শট নিয়েছি। আশা করি পদ্ধতিটি আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন।চলুন, জেনে নেয়া যাক হার্ড ডিস্ক থেকে উইন্ডোজ সেট আপ করার প্রক্রিয়াটি।
যা লাগবেঃ
১। উইন্ডোজের একটি ডিস্ক বা আইএসও ইমেইজ২। EasyBCD সফটওয়্যার (বিনামূল্যেই অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন)
পদ্ধতিঃ
১। প্রথমে স্টার্ট মেন্যুতে ক্লিক করে Computer এর উপর মাউসের কার্সর নিয়ে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন। ‘Manage’ নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন, ক্লিক করুন।
২। ‘Manage’ এ ক্লিক করার পর ‘Computer Management’ নামের একটি নতুন উইন্ডো দেখতে পারবেন। সেখানে ‘Storage’ অপশনে ক্লিক করুন। বুঝতে অসুবিধা হলে নিচের স্ক্রিন শট লক্ষ্য করুন।

৩। ‘Storage’ অপশনে ক্লিক করার পর নতুন উইন্ডোতে ‘Disk Management’ নামের একটি অপশন পাবেন। ক্লিক করুন।

৪। ‘Disk Management’ অপশনে ক্লিক করার পর নতুন একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন যার উপরের দিকে আপনার হার্ড ডিস্কের ড্রাইভের লিস্ট ভিউ এবং নিচের দিকে গ্রাফিক্যাল ভিউ দেখতে পাবেন। আমি স্ক্রিন শটে গ্রাফিক্যাল ভিউ ব্যবহার করেছি।

৫। উপরের চিত্রে দেখুন আমার কম্পিউটারে দুটি হার্ড ডিস্ক রয়েছে। প্রথম হার্ড ডিস্কের পুরোটাই আমি Windows এর System ড্রাইভ হিসেবে ব্যবহার করি। হার্ড ডিস্ক থেকে উইন্ডোজ সেট আপ দেয়ার জন্য প্রথমে আমাদের একটি ড্রাইভ ক্রিয়েট করতে হবে যার মাধ্যমে আমরা উইন্ডোজ সেট আপ করব।এক্ষেত্রে, আমি C ড্রাইভ থেকেই একটি নতুন পার্টিশন ক্রিয়েট করব। এর জন্য, C ড্রাইভের উপর মাউস রেখে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন। ‘Shrink volume’ নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন কনটেক্সট মেন্যুতে, সিলেক্ট করুন।

৬। ‘Shrink Volume’ অপশনে ক্লিক করার পর নিচের মত একটি পপ-আপ উইন্ডো দেখতে পারবেন, এটা কিছু সময় এরকমই থাকবে। কম্পিউটার ‘হ্যাং’ হয়ে গিয়েছে ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না আবার।

৭। এরপর আপনি একটি নতুন Shrink C: নামের উইন্ডো দেখতে পাবেন। এখানে আপনাকে নির্ধারিত করে দিতে হবে যে আপনি C ড্রাইভ থেকে ঠিক কত খানি জায়গা খালি করতে চাচ্ছেন নতুন পার্টিশনটি তৈরী করার জন্য। এই হিসাবটি মেগাবাইটে হয়ে থাকে এবং হিসাব অনুযায়ী আমি এখানে ৬ গিগাবাইট স্পেস খালি করার জন্য 6144 লিখেছি। আপনি ইচ্ছা করলে আরও কমও নিতে পারেন। আপনার কাছে যে উইন্ডোজ এর সিডি/ডিভিডি বা আইএসও ইমেইজটি থাকবে তার আকার অনুযায়ী নির্ধারন করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমার কাছে যে ইমেইজটি আছে উইন্ডোজের সেটি ৪ গিগাবাইটের মত। তাই আমি একটু বাড়িয়ে ৬ গিগাবাইট নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমি ৪ গিগাবাইট ব্যবহার করলেও পারতাম।আপনার চাহিদা মত জায়গার পরিমাণ তিন নম্বর ঘরে বসিয়ে ‘Shrink’ বোতামে ক্লিক করুন।

৮। দেখুন, আমার প্রথম হার্ড ডিস্কটতে C ড্রাইভের পাশে ৬ গিগবাইট স্পেস সমৃদ্ধ একটি আন-আল্যোকেটেড পার্টিশন দেখা যাচ্ছে।

৯। এখন আমাদের এই আন-অ্যালোকেটেড ড্রাইভকে ফরম্যাট করে একটি লোকাল পার্টিশনে পরিবর্তন করতে হবে। এর জন্য আন-আল্যোকেটেড ড্রাইভের উপর মাউস রেখে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন। কনটেক্সট মেন্যুতে ‘New Simple Volume’ নামের একটি অপশন দেখতে পারবেন, ক্লিক করুন।

১০। ‘New Simple Volume Wizard’ নামের একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন। ‘Next’ বোতামে ক্লিক করুন।

১১। নতুন আসা উইন্ডোতে আপনাকে ৬ গিগাবাইটের মধ্যে আপনি কতটুকু স্পেস ব্যবহার করতে হবে তা নির্ধারন করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে, আমি ৬ গিগাবাইট স্পেসই নিচ্ছি। নির্ধারন শেষে ‘Next’ বোতামে ক্লিক করুন।

১২। এরপর আপনাকে নতুন একটি উইন্ডোতে নতুন পার্টিশনের জন্য ড্রাইভ লেটার সিলেক্ট করতে বলবে। ইচ্ছেমত একটি ড্রাইভ লেটার নির্ধারন করে ‘Next’ বোতামে ক্লিক করুন।

১৩। নতুন একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন যাতে আপনাকে নতুন পার্টিশনের জন্য ফাইল সিস্টেম, আল্যোকেশন ইউনিট সাইজ এবং পার্টিশনের নাম নির্ধারন করতে বলবে। এক্ষেত্রে আমি ফাইল সিস্টেমে ‘NTFS’, অ্যালোকেশন ইউনিটে ডিফল্ট এবং পার্টিশনের নাম হিসেবে Recovery ব্যবহার করছি। আপনার নির্ধারন করা হয়ে গেলে Next চাপুন।

১৪। নতুন একটি উইন্ডো আসবে যাতে আপনার নতুন পার্টিশনের জন্য আপনার নির্ধারিত সিলেকশন গুলো দেখাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে Finish চাপুন।

১৫। দেখুন, পূর্বের আন-আল্যোকেটেড স্পেস টুকু নতুন পার্টিশন ‘Recovery’ তে পরিবর্তিত হয়েছে।

১৬। এবার, আপনার অপটিক্যাল ড্রাইভে (সিডি/ডিভিডি রম) উইন্ডোজের ডিস্ক ইনসার্ট করুন। এক্ষেত্রে আমি ভার্চুয়াল ড্রাইভে আইএসও ফাইল ইনসার্ট করেছি। আপনিও চাইলে আইএসও ব্যবহার করতে পারেন।

১৭। এবার উইন্ডোজের ডিস্কে ঢুকে alter+a ক্লিক করে ডিস্কের ভিতরের সকল ফাইল সিলেক্ট করে কপি করুন এবং আপনার তৈরী করা নতুন ‘Recovery’ পার্টিশনে ফাইল গুলো গিয়ে পেস্ট করুন।

১৮। কপি হচ্ছে। কিছুটা সময় লাগবে। চলুন, এই সময়ের মধ্যে আমরা আরও একটি কাজ সেরে ফেলি। মাই কম্পিউটারের Organize এ ক্লিক করে Folder and search options অপশনটি সিলেক্ট করুন।

১৯। ‘Folder Options’ এর View প্যানেলে যান। এরপর নিচের চিত্রের লাল মার্ক করা স্থান গুলোর প্রথমটি সিলেক্ট করুন এবং পরের দুইটির পাশ থেকে টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন এবং Apply > OK অথবা OK দিয়ে বের হয়ে আসুন।

২০। এরপর EasyBCD সফটওয়্যারটি চালু করুন। নিচের চিত্রের মত প্রথমে Add New Entry সিলেক্ট করুন, এরপর Portable/External Media থেকে WinPE সিলেক্ট করুন। Type এর জায়গায় ‘WIM Image (Ramdisk), Name এর স্থানে ‘Recovery’ (নতুন করা পার্টিশনের নাম, আপনি ইচ্ছে করলে অন্য কিছুও দিতে পারেন) এবং Path এর স্থানে নতুন করা পার্টিশনের ড্রাইভ এর মধ্যে রাখা Source ফোল্ডারের মধ্যে boot.wim ফাইলটি সিলেক্ট করুন। এরপর ‘Add Entry’ বোতাম চাপুন। নিচের দিকে দেখবেন, ‘Recovery added to the boot menu successfully!’ একটি লেখা দেখাচ্ছে। ব্যাস। হয়ে গেল। এরপর আপনার কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন।

কম্পিউটার রিস্টার্ট দেয়ার পর বুট মেন্যুর পর দেখবেন আপনাকে আপনার বর্তমান অপারেটিং সিস্টেম এবং নিচে আপনার সেই রিকোভারী বুট অপশন দেখাচ্ছে।
Windows 7আপনি Recovery সিলেক্ট করলে উইন্ডোজ সেট-আপ প্রোসেস শুরু হবে। আপনি এরপর স্বাভাবিক ভাবে উইন্ডোজ সেট-আপ করুন। খেয়াল রাখবেন, সেট আপ প্রোসেসের সময় ‘System Reserved’ ড্রাইভটি ফরম্যাট করবেন না। তাহলেই হবে। সেট আপ প্রোসেস শেষে কম্পিউটার রিস্টার্ট হবার পর আবার দেখবেন আপনাকে নিচের মত অপশন দেখাচ্ছে। (এক্ষেত্রে আমার কম্পিউটারের পূর্বের অপারেটিং সিস্টেম ছিল উইন্ডোজ ৭, এবং আমি হার্ড ডিস্ক থেকে আবারও ইন্সটল করেছি উইন্ডোজ ৭। আপনার ক্ষেত্রে ভিন্ন অপশন আসতে পারেন।)।
Recovery
Windows 7এখান থেকে আপনার একটিও সিলেক্ট করার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট সময় পর কম্পিউটারই সিলেক্ট করে নিবে এবং এর মাধ্যমেই শেষ হল হার্ড ডিস্কের মাধ্যমে উইন্ডোজ সেট আপ এর পদ্ধতিটি।
Windows 7
Recovery
আশা করি, পদ্ধতিটি আপনারা বুঝতে পেরেছেন এবং এই পদ্ধতি থেকে আপনারা উপকৃতও হবেন। আজ এ পর্যন্তই থাক, পরে হাজির হব নতুন কিছু নিয়ে। সে পর্যন্ত, ভালো থাকুন
Leave your comment
Post a Comment